5
(2)

বিটকেয়েন কি? কীভাবে অনলাইনে বিটকয়েন আয় করবেন? বিটকয়েন আয় করার উপায় কি? বিটকয়েন আয়ের সেরা সাইট কোনগুলি? বিটকয়েন আয় করার পর তা টাকায় কিভাবে রূপান্তর করবো? বিটকয়েন থেকে বিকাশ এ কিভাবে টাকা নিবো? এত সকল কিছু যদি আপনার মাথায় ঘুরপাক খায়, তাহলে এই আর্টিক্যাল টি আপনার জন্য। যদি এত কিছু ঘুরপাক না খায় তাহলে শুধু আজকে “বিটকয়েন কি” এতটুকু জেনে রাখুন।

বিটকয়েন কী?

বিটকয়েন সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দামি একধরনের ক্রিপ্টো-কারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রা। ইন্টারনেটে মাইনিং করার মাধ্যমে এই মুদ্রার লেনদেন হয়ে থাকে। বিটকয়েন এর মত আরও অনেক ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে। যেমনঃ সাতোশি, ডগি কয়েন ইত্যাদি।

২০০৮ সালের শেষের দিকে জাপানের একজন নাগরিক সাতোশি নাকামোতো নামের কেউ বা একদল সফটওয়্যার বিজ্ঞানী এই ‘ক্রিপ্টোকারেন্সির’ উদ্ভাবন করেন। যদিও এই ব্যক্তির আসল নাম বা পরিচয় এখনো জানা যায়নি। এই ভার্চুয়াল মুদ্রাকে বলা হয় বিটকয়েন।

২০১৩ সালের দিকে এই মুদ্রার দাম ১০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে। এখন এর বর্তমান মূল্য ডলার হিসেবে $58,490 আমেরিকান ডলার। যার বাংলাদেশি টাকায় ৳49,49,396 ।

বিটকয়েন প্রাইস 10-04-2021

ইন্টারনেট ব্যবহার করে দুইজন ব্যবহারকারীর মধ্যে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করেও এটা সরাসরি আদান-প্রদান (পিয়ার-টু-পিয়ার) করা হয়। এই লেনদেনের তথ্য ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে, কিন্তু এই মুদ্রার লেনদেন তদারকির জন্য কোন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো কর্তৃপক্ষ থাকে না। এই মাইনারের মাধ্যমে নতুন বিটকয়েন তৈরি হয়।

বিটকয়েন তৈরি বা কেনার পর তা গ্রাহকের হিসাবে জমা থাকে। পরবর্তীতে তিনি সেগুলো ব্যবহার করে পণ্য কিনতে পারেন বা বিক্রি করে দিতে পারেন। বিক্রি করলে বিটকয়েনের পরিবর্তে প্রচলিত অর্থে তা গ্রহণ করা যায়। বিভিন্ন কম্পিউটার ব্যবহার করে লেনদেন করা হলেও সেসব তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে হালনাগাদ করা হয়ে থাকে।

বিটকয়েনকে অনেকেই ভবিষ্যতের মুদ্রা বলে মনে করেন।

যেহেতু বিটকয়েনে লেনদেনে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন পড়ে না। তাই এর ফি বা চার্জ এর পরিমানও খুব কম। গত কয়েক বছরে বিটকয়েনের ইকোসিস্টেম বা বাজার ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হয়েছে, অনলাইনে বিটকয়েন এক্সচেঞ্জও চালু হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই এখন বিটকয়েনের আইনি স্বীকৃতি আছে। তবে বাংলাদেশ, মিসর, আলজেরিয়া, মরক্কো প্রভৃতি দেশে বিটকয়েন এখনো নিষিদ্ধ।

বিটকয়েন নিষিদ্ধ বলে আবার ভয় পেয়ে যাবেন না কিন্তু। বিটকয়েন নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশের অনেকেই বিটকয়েন মাইনিং করে “বিটকয়েন আয়” শুরু করেছে। তারা এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় $200 ডলার পরিমাণ বা তারও বেশি বিটকয়েন থেকে ইনকাম করে থাকে।

বিটকয়েন আয় করার উপায়

বিটকয়েন আয় করার মাত্র দুটি উপায় আছে। নিজে নিজে মাইনিং এবং আপনার হয়ে অন্যজন মাইনিং করবে। কিন্তু বিটকয়েন আয় করতে হলে আপনাকে আগে আমার দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। কমেন্ট করে দিতেও পারেন, আবার মনে মনে নিজেও দিতে পারেন।

  1. আপনি কি অনেক বেশি বিটকয়েন আয় করতে চান?
  2. আপনি কি অল্প বিটকয়েন আয় করতে চান?

এখন হয়তো আপনি মনে মনে বলতে পারেন, কেউ কি কম বিটকয়েন ইনকাম করতে চাইবে, যদি বেশি বিটকয়েন ইনকাম করার সুযোগ থাকে? তা ঠিক, যদি আপনার প্রশ্নের উত্তর ”বেশি বিটকয়েন ইনকাম” হয়, তাহলে আপনাকে ইনভেস্ট করতে হবে। ইনভেস্ট করা বলতে আপনাকে $100 ডলার বা তার বেশি পরিমান ডলার এর সমপরিমাণ বিটকয়েন ক্রয় করে ডিপোজিট করে রাখতে হবে। এতে করে ১ বছর যদি আপনি ডিপোজিট করে রাখেন, তাহলে প্রতিদিন আপনি পাবেন 4% + ইন্টারেস্ট পাবেন। এবং এর সাথে সাথে আপনার বিটকয়েন এর দামও বাড়তে থাকবে। একবছর পর আপনার বিটকয়েন এর মূল্য কমপক্ষে $500 ডলার এ পৌঁছাবে। এবং তখন আপনি চাইলে বিক্রি করে দিতে পারবেন। কারণ বিটকয়েন এর দাম এখন দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।

[jnews_slider_8 enable_autoplay=”true” content_type=”post” include_category=”2″]

এবার আপনার প্রশ্নের উত্তর যদি ”অল্প বিটকয়েন ইনকাম” হয়, তাহলে আপনাকে একটু সময় ব্যায় করতে হবে। এই ছাড়া আর কিছু না। তাও প্রতি ঘন্টায় ১-২ মিনিট। মানে আপনি যদি ৮ ঘন্টা ঘুমান। এই ঘুমের টাইম বাদ দিয়ে ১৬ ঘন্টার ভিতর প্রতি ঘন্টায় ২ মিনিট সময় দিলে মোট ৩২ মিনিট।

প্রতিদিন ৩২ মিনিট সময় দিয়ে একবছর পর আপনিও $500-$10000 এর মালিক হতে পারেন। আমি কিন্তু মিথ্যা বলছি না। সত্যি বলছি। কারণ আমি নিজেও বিটকয়েন ইনকাম করেছি। এবং তার প্রমাণও আমি নিচে দিলাম।

এখন প্রশ্ন হল, যদি ফ্রিতে ইনকাম করা যায়, তাহলে আর ডিপোজিট করবো কেন? একবাক্যে উত্তর দিয়ে শেষ করে দিই, ডিপোজিট করলে আপনার আর সময় দিতে হবে না। কিন্তু ডিপোজিট না করলে আপনাকে প্রতিদিন সময় ব্যয় করতে হবে। শুধু মাত্র এটাই পার্থক্য।

কীভাবে অনলাইনে বিটকয়েন আয় করবেন?

অনলাইন ব্যতীত অফলাইনে বিটকয়েন আয় করা অসম্ভব অসম্ভব। কারণ উপরেই আমরা জেনেছি যে, বিটকয়েন কোন দেশের মুদ্রার নাম না। এটি একপ্রকার ভার্চুয়াল মুদ্রা। এটি ধরা যায় না। সুতরাং বিটকয়েন আয় করতে হলে আপনাকে অনলাইনেই করতে হবে। অর্থাৎ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, বা মোবাইল ডিভাসের মাধ্যমে ইন্টারনেট কানেকশন অন রেখে বিটকয়েন মাইনিং করতে হবে।

বিটকয়েন মাইনিং এর অনেক সাইট আছে। এর ভিতর যেমন স্ক্যাম সাইট ( যেই সাইট গুলো কাজ করিয়ে নিয়ে টাকা দেয় না অর্থাৎ প্রতারক সাইট ) রয়েছে তেমনি লেজিট সাইট ও আছে।

বিটকয়েন আয় করতে হলে আপনার যা প্রয়োজন হবেঃ

  • একটি সচল কম্পিউটার, ল্যাপটপ অথবা মোবাইল ডিভাইস লাগবে।
  • ইন্টারনেট সংযোগ।
  • ব্রাউজার
  • ভিপিএন
  • মেইল এড্রেস

আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল যে ধরণের ডিভাইস ই ব্যবহার করেন না কেন আপনাকে ভিপিএন ব্যবহার করতে হবে। কারণ বাংলাদেশ থেকে যে বিটকয়েন মাইনিং সাইট বন্ধ করে রাখছে। সরকার বিটকয়েনকে বাংলাদেশকে অনুমতি দেয় নাই। তাই একটু ভিপিএন ব্যবহার করতে হবে।

অনলাইনে ইনকাম করা বিষয়ক আর পোস্ট দেখুনঃ

প্রচলিত পদ্ধতিতে ২ কোটি ১০ লাখ বিটকয়েনের প্রচলন সম্ভব। অর্থাৎ সরবরাহ সীমিত। সে জন্যই বিটকয়েনকে স্বর্ণের সঙ্গে তুলনা করা হয়। খনি থেকে উত্তোলনের একপর্যায়ে গিয়ে যেমন স্বর্ণের সরবরাহ শেষ হয়ে যাবে। এরপর উত্তোলিত স্বর্ণের বিকিকিনি হতে পারে। তবে নতুন করে উত্তোলনের সুযোগ থাকবে না।

বিটকয়েনের ধারণাও তা-ই। অ্যালগরিদমের সমাধানের মাধ্যমে বিটকয়েন ‘উত্তোলন’ করতে হয়, যা বিটকয়েন মাইনিং হিসেবে পরিচিত। আর বর্তমান হারে চলতে থাকলে ২ কোটি ১০ লাখ বিটকয়েন মাইনিং করতে ২১৪০ সাল লেগে যাবে।

বিটকয়েন আয়ের সেরা সাইট কোনগুলি?

বিটকয়েন আয়ের সাইট অনেক থাকতে পারে। কিন্তু আমার দেখা বিটকয়েন আয়ের সেরা সাইট হলো Freebitco.in . এই সাইটটিতে আপনি প্রতি ঘন্টায় একটি করে ক্যাপচা পুরনের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন। এই সাইটে আমি ২০১৬ সাল থেকে খেলার চলে কাজ শুরু করি। কিন্তু অল্প কিছুদিন কাজ করার পর আর কাজ করতে পারি নি। ইচ্ছা করে করিনি এমন নয়। আমার ফোন চুরি হয়ে যায়।

সেই ২০১৬ সালে একটু কাজ করার পর আজ ২০২১ সালে আমি মোট 100 ডলারের মত ইনকাম করেছি। যার বর্তমান টাকায় রূপান্তর করলে ৮৪০০৳ এর মত হবে।

তবে এইখানে বর্তমানে এই বিটকয়েন মাইনিং সাইটটি VPN ছাড়া চলে না। ফেসবুক যখন সরকার বন্ধ করে দেওয়ার কারণে আমরা সবাই VPN ব্যবহার করেছি ঠিক তেমনি এই সাইট ও বাংলাদেশ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই এই সাইটকেও VPN দিয়ে ব্যবহার করতে হবে।

কিভাবে নতুন একটি একাউন্ট ওপেন করবো?

এটা একদম সহজ একটি কাজ। Freebitco.in সাইটে একটি একাউন্ট কিভাবে ওপেন করবেন, তার স্টেপ ভাই স্টেপ আমি এই ভিডিওতে দেখিয়ে দিয়েছি। ভিডিওটি দেখে খুব সহজেই মাত্র ৫ মিনিটে একটি একাউন্ট খুলে কাজ শুরু করতে পারবেন।

আর আপনি আপনার রেফারেল লিংক ব্যবহার করেও আপনার বিটকয়েন ইনকাম কে দ্বিগুন করতে পারেন।

এরপর টাকা ইনকাম করার পর কিভাবে টাকা উইথড্র করবো?

আপনি বিটকয়েন ইনকাম এর পর তা কোন ই-কমার্স বা অন্য কোন বায়িং সাইটে ক্রয় করার মাধ্যমে আপনার বিটকয়েন খরচ করতে পারেন। আর যদি তা আপনার প্রয়োজন না হয় তাহলে আপনার বিটকয়েন আমার কাছেও বিক্রি করতে পারেন। বিক্রি করতে চাইলে ফেসবুকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আর আমার কাছে বিক্রি করা মানে আপনি রকেট/বিকাশ যেকোন মোবাইল ব্যাংকিং এ টাকা পেয়ে যাবেন হাতে হাতে।

বইটি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান রেটিং দিন?

Click on star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 2

No votes so far! Be the first to rate this book.

As you found this post is useful...

Follow us on social media!

We are sorry that this book was not useful for you!

Let us improve this post!

Tell us how we can improve our site?