!!জেনে রাখুন নিষিদ্ধ হস্তমৈথুন এর ইতিহাস বই……..!!

সেই গুহাবাসী মানুষের সময় থেকেই হস্তমৈথুনের নিদর্শন পাওয়া যায় বিভিন্ন গুহাচিত্রের মাধ্যমে। এরপরে নানান প্রাচীন সভ্যতায় এর রেওয়াজ ছিল বলে দেখা গেছে। প্রাচীন গ্রীক, ব্যাবিলনীয়, মিশরীয় সভ্যতায় এর ভুরি ভুরি নিদর্শন। প্রাচীন গ্রীসে পুরুষ এবং মহিলা উভয়েই হাত এবং অন্যান্য বস্তুর সাহায্যে স্বমেহনে অভ্যস্ত ছিলেন। সেলফ সেক্সকে ঘিরে নানারকম রিচুয়ালস ও চালু ছিল সেই সময়। প্রাচীন চীন দেশেও হস্তমৈথুনের নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে প্রাচীন সভ্যতায় এটিকে পাপ কাজ বলে মনে না করলেও এর ফলে শারীরিক ক্ষতি হবার ভয় থেকে তারা মুক্ত ছিল না।

আধুনিক গবেষণা কি বলে?

চীনদেশে যেমন এই ধারণা প্রচলিত ছিল যে হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত করলে দেহের ভাইটাল শক্তির ক্ষয় হয় এবং সেটা স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক। আধুনিক গবেষণা যদিও বলে এই ধরনের ভয় সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, তবু সেই সময় কেন এরকম আশঙ্কা মানুষের মনে ছিল সেটা আন্দাজ করাই যায়। তখনও দেহে কোষের ভূমিকা সম্পর্কে মানুষ অবগত ছিলনা, জানতনা যে রক্ত থেকে শুরু করে দেহের অন্যান্য সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কোষই কিছুদিন পর মরে যায়, আবার নতুন করে নতুন কোষের জন্ম হয়। তাই রক্তদান করলে যেমন মানুষের ক্ষতি হয়না, তেমনই দেহ থেকে বীর্য বার হয়ে গেলেও বীর্য বা শুক্রাণু কমে যায়না।

হস্তমৈথুন কি?

হস্তমৈথুন মানে যৌন পরিতোষের জন্য পুরষের লিঙ্গ বা নারী ভগান্কুর ঘর্ষণ(stimulation) করে যৌনানন্দ উপভোগ করা ।এটা সম্পর্কে প্রত্যেকেরই নিজস্ব উপলব্ধি বা অভিজ্ঞতা হয় এবং সবাই ভাবতে থাকে – হায়হায় ! এটা কি শুধু আমার সাথেই হচ্ছে? ছোটকাল থেকেই মানুষ ধর্মের বেড়াজালে থাকে বলে এ নিয়ে গভীর পাপবেধে আক্রান্ত হয় এবং ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকে । আসুন জেনে আসি কোন ধর্ম এ ব্যাপারে কি বলে ?

পৃথিবীর সমগ্র ধর্মগুলো হস্তমৈথুনকে একেক ধর্ম একেক ভাবে দেখে। বেশিরভাগ ধর্মই একে খারাপ চোখে দেখে এবং পাপ হিসেবে গণ্য করে । আবার কিছু কিছু আধুনিক ধর্ম একে বৈধতা দেয় এই বলে যে এতে মানুষ তার যৌনাকাঙ্খাকে আত্মসংযমে সাহায্য করে । মোদ্দা কথা হল , বেশীরভাগ ধর্ম এ নিয়ে কথা বলতে চায় না এবং এটাকে পাপকার্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ।

ইসলামে কেন ইহা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ?

ইসলামী স্কলাররা সাধারনত বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া হস্তমৈথুন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা দেয়। কুরানে ২৩ নম্বর সুরার ৫-৭ নম্বর আয়াতে বলা আছে-

“এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গ সংযত রাখে তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না । অত:পর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে সীমালংঘনকারী হবে”

তারপরেও যদি কারও যৌনাকাঙ্খা অবদমিত করা কষ্টকর হয়ে পরে সেক্ষেত্রে হস্তমৈথুনঅনুমোদন দেয়া হয়েছে তবে সেক্ষেত্রে সেটা হবে ভীষণ দুর্ভিক্ষে মৃত শুকরের মাংস খাওয়ার মত এবং যখন অন্য কোন খাবার না মেলে ।

ধার্মিক ও নিধার্মিকদের মধ্যে হস্তমৈথুন নিয়ে প্রতিক্রিয়া

২০১১ সালে বিখ্যাত আমেরিকান মনস্তত্ববিদ ড্যারেল রে sex and god নামে একটি বই প্রকাশ করেন এবং সেই বইয়ের একটি টপিক মাস্টারবেশন নিয়ে একটি অনলাইন সার্ভে করেন যেখানে তিনি প্রায় ১৪০০০ ধার্মিক ও অধার্মিক ব্যক্তিদের হস্তমৈথুন নিয়ে প্রশ্ন করেন। তার প্রশ্নগুলো ছিল –

-আপনি কখন হস্তমৈথুন শুরু করেন ?

-আপনি ওরাল সেক্স কবে শুরু করেন?

-আপনি কবে থেকে সরাসরি সেক্স শুরু করেন?

এবং তুলনা করার পর আশ্চর্যজনক ভাবে দেখা যায় ধার্মিক ও অধার্মিকদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই । ছেলেরা ৯৪% ও মেয়েরা ৭৫% ।

আরও অবাক করা তথ্য হল ধার্মিক ব্যাক্তিরা বেশি পর্ণগ্রাফি দেখে অধার্মিকদের চেয়ে। কারণ তাদের মনের অবদমিত কামনা বাসনা তারা পূরণ করতে পারেনা অন্যের সাথে সেক্স করে । তাই তারা নীলছবির দারস্থ হয়।

আপনি ধার্মিক হন আর না হন সার্ভে এটাই প্রমাণ করে যে এটি একটি প্রাকৃতিক ব্যাপার । এবং আপনারা আপনাদের ছোটকালের স্মৃতি মনে করলেই খেয়াল করবেন কখনো কখনো আপনার কাপড় বা বিছানার চাদর ভেজা । অনেকে এটাকে স্বপ্নদোষ বলত । এর যৌক্তিক কারণ হচ্ছে, আপনি নিজ থেকে না করলে সেটা প্রাকৃতিক ভাবে হয়ে যাবেই।

ড্যারেল রে ধার্মিক ও অধার্মিকদের মধ্যে শুধুমাত্র একটি পার্থক্য খুজে পান । তা হল – ধার্মিকদের মধ্যে

“গভীর পাপবোধ ও অনুশোচনা”

যেকোন কিছু যখন দমিয়ে রাখা হয় , তার প্রতি আকর্ষণ আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।সব ধর্মেই বিবাহ বহির্ভুত হস্তমৈথুন, সেক্স নিষিদ্ধ করা হয়েছে, পর্ণগ্রাফি দেখা নিষিদ্ধ। কিন্তু তাই বলে কি ধার্মিক দেশগুলো থেকে এসব কমে গেছে? বরন্চ পাকিস্তান পর্ণ দেখায় হয়েছে প্রথম, আর বাংলাদেশে আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন।

বিজ্ঞান কি ব্যাখ্যা দেয় হস্তমৈথুনের ?

সাইকোলজি আর বিজ্ঞান দেখিয়েছে যে হস্তমৈথুন একটি  প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বিশেষত তরুণদের মধ্যে।

হস্তমৈথুনের সুবিধাগুলো হল-

1)এটি আপনার মনকে প্রফুল্ল করে । আপনার পার্টনার ছাড়াই আপনি আপনার সারাদিনের ব্যস্ততা থেকে ,অবসাদ থেকে মুক্তি পান হস্তমৈথুন করেই ।সেক্সোলজিস্ট এভা ক্যাডেলের মতে

“Masturbation acts as a de-stressor and an antidepressant. It stimulates the release of pleasure endorphins from the brain, which flood the body and boost your mood-just like sex”

2)হস্তমৈথুনের পর ঘুম আসে খেয়াল করে দেখেছেন? এবং সেই ঘুম অনেক গভীর হয় ও উন্নতমানের (quality sleep) । কারণ যখন পুরুষের বীর্য বের হয়, তার সাথে কিছু ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল যেমন –

যে পদার্থ গুলো বের হয়..মাম

অক্সিটোসিন,ভাসপ্রেসিন,প্রোল্যাক্টিন নামক কিছু পদার্থ বীর্যের সাথে বের হয়ে যায়, যা আপনার মাঝে ক্লান্তি এনে দেয় এবং রিপোর্ট সাইন লাইন একটি নতুন জানালা খোলে । হস্তমৈথুন শরীরের উপর প্রাকৃতিক ঘুমের প্রভাব বৃদ্ধি করে প্রতিদিনের স্ট্রেসের সাথে লড়তে পারে ।

3)সর্দি ঠান্ডা থেকে মুক্ত করে হস্তমৈথুন???

ভাবতে অবাক লাগলেও কথা সত্য। Neuroimmunomodulation জার্নালে একটি পরীক্ষার রেজাল্ট পাবলিশ হয় যেখানে ১১ জন ভলান্টিয়ারকে হস্তমৈথুন করতে বলা হয় এবং শুরুর থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ত পরীক্ষার পর দেখা যায় বীর্যৎপাতের সময় কিলার (killer cells called leukocytes) বৃদ্ধি পায় যা ছেলেদের শরীরের ইম্যুয়ুন সিস্টেম বাড়াতে সাহায্য করে।

4)প্রস্টেট ক্যানসার থেকে প্রতিরোধ করে

পুরনো স্পার্ম শরীর থেকে অপসারন করার মাধ্যমে নতুন স্পার্মের সৃষ্টি হয় যা ৩৩% ক্যানসার প্রতিহত করে । ২০০৪ সালে হার্ভাড স্টাডি জানতে পারে যে যারা মাসে ২১ বার হস্তমৈথুন করে তাদের প্রস্টেট ক্যানসার হওয়ার সম্ৰাবনা কমে যায় তাদের তুলনায় যারা মাসে ৫-৭ বার হস্তমৈথুন করে । এখানে ক্যাডেলের কথা হুবুহু তুলে দিচ্ছি

“The exact link between masturbation and prostate cancer risk is unclear, but flushing the prostate of carcinogens that could cause problems is the objective.”

এছাড়াও

5)Improve heart health

6)Reduce risk of Erectile dysfunction

7)Helps you last longer

8)Makes you look younger

9)Prevents sexually transmitted diseases

10)Increase your lifespan

তথ্যসুত্র- 10 BENEFITS OF MASTURBATING

 

হস্তমৈথুন: এক অভিশাপ!

অনেকেই বলে থাকেন হস্তমৈথুন কোন ক্ষতিকারক না। তারা ডাহা মিথ্যা কথা বলে থাকে। যেমন- এক শিয়ালের লেজ কাটা যাওয়ার কারণে সে কৌশলে সব শিয়ালের লেজ কাটার ফন্দি আঁটে ঠিক তেমনি যারা নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করে ফেলেছে তারা চাচ্ছে যে এবার নেটে বা যে কোন উপায়ে আরো দশজনকে এই ফাঁদে আটকাই। যাই হোক এগুলো পশ্চিমা বা বিধর্মীদের এক কুট কৌশল। আজকাল অনেক ডাক্তারও পরামর্শ দিয়ে থাকে যে, হস্তমৈথুন ক্ষতিকর না। কেননা, যদি হস্তমৈথুন ছেড়ে দেয় তবে তাদের কাস্টমার অনেক কমে যাবে তাই তারা সুকৌশলে রোগীও বাড়াচ্ছে, অপরদিকে ব্যবসাও চাঙ্গা রাখছে। তাই নিজের অঙ্গ বিকল করার আগে নিজেই স্বিদ্ধান্ত নিন। পরে পস্তাবেন না।

হস্তমৈথুনের ক্ষতিকারক ২৬টি দিক

১। মন দুর্বল হয়ে পড়ে।
২। পাকস্থলী, ৩। যকৃত এবং ৪। হৃদপিন্ড নষ্ট হয়ে যায়।
৫। দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়।

৬। কানে শোঁ শোঁ আওয়াজ অনুভূত হয়।
৭। সর্বদা খিটখিটে মেজাজ থাকে।
৮। সকালে ঘুম থেকে উঠলে শরীর কাহিল (ক্লান্ত) হয়ে পড়ে।
৯। শরীরের জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা অনুভব হয় এবং চোখে ঝাপসা দেখে                                            ১০। বীর্য পাতলা হয়ে যাওয়ার কারনে সর্বদা সামান্য সামান্য বীর্য নির্গত হতে থাকে, প্রস্রাবের নালীতে বীর্য জমে থাকে ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। ফলে প্রস্রাবের নালীতে ক্ষত হয়ে যায় এবং ক্ষতস্থান হতে পুঁজ বের হয়।
১১। প্রথমে প্রথমে প্রস্রাবের সময় সামান্য জ্বালা যন্ত্রনা অনুভব হয়।
১২। পরবর্তীতে প্রস্রাবের সাথে পুঁজ বের হয়।
১৩। অতঃপর প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা যন্ত্রণা সৃষ্টি হয়।
১৪। এমনকি গলোরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনকে এমনই তিক্ত করে তোলে, যার ফলে মানুষ মৃত্যুকে আহ্বান করতে থাকে।
১৫। বীর্য পাতলা হয়ে যাওয়ার কারণে কোন কল্পনা ব্যতীত প্রস্রাবের আগে বা পরে প্রস্রাবের সাথে বীর্য নির্গত হয়। একে প্রমেহ রোগ বলা হয়, যা কঠিন কঠিন রোগ সমূহের মূল।
১৬। অঙ্গ বিকল হয়ে যায়।
১৭। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।
১৮। মেরুদন্ড দূর্বল হয়ে পড়ে।
১৯। বিবাহের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।
২০। যদিও স্ত্রীর সাথে মিলন করার ক্ষেত্রে সফলও হয়, কিন্তু সন্তান সন্তুতি জন্ম নেয় না, ফলে নিঃসন্তান থেকে যায়।
২১। কোমরে ব্যথা অনুভব হয়।
২২। চেহারা হলুদ বর্ণ ধারন করে।
২৩। চোখে গাড়া পড়ে।
২৪। শরীর দিন দিন ক্ষীন হয়ে যায়, স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে।
২৫। টাইফযেড রোগে আক্রান্ত হয়।
২৬। মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে যায়।
(বি.দ্র. উপরে বর্ণিত ২৬টি কারণ হতে সব গুলো যে একজনের একসাথে প্রকাশ পাবে তা নয়। আস্তে আস্তে এগুলোর অধিকাংশই হস্তমৈথুন কারীগনের মাঝে পাওয়া যাবে।)

ধন্যবাদ সবাইকে আল্লাহ আমাদের খারাপ পাপাচার কাজ থেকে সর্বদা সর্বক্ষণ হেফাযত রাখুক আমিন।